Connect with us

ওটিটি

‘কাইজার’ ও ‘সিন্ডিকেট’: ওটিটিতে অসামান্য আফরান নিশো

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

আফরান নিশো

‘কাইজার’ ওয়েব সিরিজে আফরান নিশো (ছবি: ফেসবুক)

এবারের ঈদে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তিপ্রাপ্ত ওয়েব সিরিজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও প্রশংসিত হচ্ছে তানিম নূর পরিচালিত ‘কাইজার’ এবং শিহাব শাহীনের ‘সিন্ডিকেট’। দুটিতেই অনবদ্য নৈপুণ্য দেখিয়েছেন আফরান নিশো। মূলত তার অসাধারণ অভিনয়ের সুবাদে সিরিজ দুটি দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। তার ভক্তরা তো দারুণ উচ্ছ্বসিত। এবারের ঈদে ওটিটিতে তিনিই দর্শক মাতিয়েছেন।

আফরান নিশোর প্রতি বরাবরই ভিন্ন আগ্রহ থাকে দর্শকদের। তিনি নিজেকে ভেঙেচুরে উপস্থাপন করেছেন সিরিজ দুটিতে। তিনি কতটা বড় মাপের অভিনেতা হয়ে উঠেছেন, দুটি সিরিজে সেই প্রমাণ পাওয়া গেলো। তার সবচেয়ে পরিণত পারফরম্যান্স অনেকের চোখে এই দুটি।

ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে মুক্তি পাওয়া পূর্ণাঙ্গ গোয়েন্দা থ্রিলার ‘কাইজার’ সবার মুখে মুখে। সিরিজটি দেখে দর্শকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আফরান নিশোকে ফুল মার্কস দিয়েছেন। অনেকের মন্তব্য, ডিএমপির এডিসি কাইজার চৌধুরী চরিত্রটি জনপ্রিয় এই অভিনেতার ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। গোয়েন্দা সিরিজটিতে নিজেকে শতভাগ নিংড়ে দিয়েছেন তিনি। তার অভিনয় গুণে অর্থবহ হয়েছে সিরিজটি।

আফরান নিশো

আফরান নিশো (ছবি: ফেসবুক)

একজন সহজাত গোয়েন্দা কর্মকর্তার ঠিক যেমন হওয়া প্রয়োজন; কাঁচাপাকা চুল, দাড়ি আর পাঁচ কেজি ওজন বাড়িয়ে আফরান নিশো নিজেকে সেভাবেই উপস্থাপন করেছেন। কাইজার চরিত্রে তার বিকল্প ভাবা মুশকিল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী তিনি নিজেই। কাইজারের ভূমিকায় পুরোপুরি নিখুঁত তিনি। কাইজার ও নিশো যেন পর্দায় নেমসেক হয়ে উঠেছেন। কাইজারকে নিজের মতো করে দুর্দান্তভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন নিশো। মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাভাবনা থেকে শুরু করে বন্ধুত্বের টানাপোড়েন, সবক্ষেত্রে ছিলো তার অনবদ্য অভিনয়। ৯ পর্বের সিরিজ জুড়ে দারুণ অভিনয় করে গেছেন তিনি।

গল্পের শুরুতে রাজধানীর গুলশানে একটি ফ্ল্যাটে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান জয়া ও সাবার গলা কাটা লাশ পাওয়া যায়। জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব এসে পড়ে এডিসি কাইজার চৌধুরীর ওপর। কনসোল হাতে ভিডিও গেমের প্রতি আসক্তির কারণে তার পারিবারিক জীবনে ঘটে অশান্তি। তার কাছে গেম আগে, বাকি সবকিছু পরে। গেম খেলা নিয়ে কেউ কিছু বললে বদমেজাজি কাইজার বিগড়ে যান। পরিবার ও কাছের মানুষের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। অগোছালো এই মানুষটির বিয়েবিচ্ছেদ হয়েছে। ব্যক্তিজীবনে তিনি বয়ে বেড়ান সম্পর্কে ব্যর্থ হওয়ার গ্লানি। নিজের প্রতি ন্যূনতম যত্ন নেন না।

হত্যা মামলার কুলকিনারা করার ভার পাওয়া কাইজারের রক্ত দেখলে বমি আসে। তদন্তের কাজে গিয়ে ঘুমে ঢলে পড়েন। শরীরের অবস্থা ভালো না। কিন্তু গোয়েন্দা হিসেবে তিনি প্রথম শ্রেণির। বুদ্ধিদীপ্ততার জন্যই টিকে আছেন চাকরিতে। তার সেন্স অফ হিউমার অপূর্ব। দক্ষ গোয়েন্দা হিসেবে তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কের সঙ্গে দারুণ স্মৃতিশক্তির প্রভাব আছে তার।

বাবা হিসেবে খুব যত্নশীল কাইজার। সিরিজের শুরু থেকে নিকিতাসহ বিভিন্ন চরিত্রের সঙ্গে কাইজারের মিথস্ক্রিয়া ভালো লাগার মতো। মেডিকেল স্টুডেন্ট অনন্ত কাইজারের গেম-মেট। কাইজারের নিঃসঙ্গ জীবনের অন্যতম সঙ্গী। জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি একজন গোয়েন্দার জীবনের হতাশা, সংকট, দুর্দশা, টানাপোড়েন আলাদাভাবে গুরুত্ব পেয়েছে সিরিজে। ছোটবেলায় তিন গোয়েন্দার মতো নিজেদের ভাবা কাইজার ও তার দুই বন্ধু বড় হয়ে গোয়েন্দা, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও আইটির মানুষ হয়ে মামলাটিতে জড়িয়ে যায়। অম্লান, তন্ময়, কাইজার ও শিরিনের ছোটবেলার ছোট একটি দৃশ্য সিরিজটির শুরুতে দর্শকের মনে ছাপ ফেলেছে। মাল্টিডাইমেনশনাল গল্পের জন্য ওয়েব সিরিজটি দর্শকদের ভালো লেগেছে। কাইজারের জীবনের তিনটি আলাদা গল্প সমান্তরালে চলেছে এবং খুব সুন্দরভাবে তিনটি গল্প একসঙ্গে মিশে কাইজার চরিত্রটিকে পূর্ণতা দিয়েছে।

আফরান নিশো

‘সিন্ডিকেট’ ওয়েব সিরিজে আফরান নিশো (ছবি: ফেসবুক)

আফরান নিশোর দুর্দান্ত অভিনয়ের একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। তন্ময়ের জন্মদিনের পার্টিতে অম্লানের সঙ্গে কাইজারের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও অভিব্যক্তি এককথায় অতুলনীয়। একজন মানুষের দুর্বল পয়েন্ট নিয়ে যখন কথা বলা হয়, ওই মানুষটার আচরণ হয় ভয়াবহ। এমন একটি পরিস্থিতিতে নিশো ঠিক তেমনই ভয়ংকর সুন্দর ছিলেন।

অভিনয়ের দিক থেকে আফরান নিশোর পর সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। বরফ-শীতল খল চরিত্র ব্যারিস্টার মোক্তার মাহমুদ জফরি হিসেবে কথা বলার ধরন ও অভিব্যক্তি অসাধারণ। এছাড়া প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীর পারফরম্যান্স এককথায় দারুণ। তারা হলেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, রিকিতা নন্দিনী শিমু, শতাব্দী ওয়াদুদ, দীপান্বিতা মার্টিন, স্বাগতা, সুমন আনোয়ার, নাজিবা বাশার, আইশা খান, হৃদ্ধি, সৌম্য জ্যোতি, নাদের চৌধুরী, শাহেদ আলী। অতিথি চরিত্রে আহমেদ রুবেল মুগ্ধ করেছেন।

‘খুন করে ধরা না পড়া একটা আর্ট। আর আমি সেই আর্টের ক্রিটিক’ সংলাপটির মাধ্যমে আফরান নিশো বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই সিরিজের হর্তাকর্তা। আরেকটি দারুণ সংলাপ, ‘ফ্রেন্ডশিপ একটা সেটমেন্যুর মতো। নিলে সবগুলোই নিতে হবে।’ এমন সব চমৎকার বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপের জন্য বাহবা পাচ্ছেন আয়মান আসিব স্বাধীন। তার বয়স মাত্র ২৬ বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ থেকে পড়াশোনা করেছেন এই তরুণ।

ফেলুদা, ব্যোমকেশ, তিন গোয়েন্দা অথবা শার্লক হোমস পড়ে বা এসব চরিত্র নিয়ে বানানো কন্টেন্ট দেখে বড় হওয়া দর্শকদের একজন নির্মাতা তানিম নূর। ‌‘কাইজার’ নির্মাণে তার অনুপ্রেরণা এগুলোই। তানিম নূরের নির্মাণ গুণে ‘কাইজার’ আলোচিত সিরিজ হয়ে উঠেছে।

‘কাইজার’ ওয়েব সিরিজের ভাবনা, গল্প, চিত্রনাট্য ও অভিনয় সবই ভালো। এসবের চমৎকার সংমিশ্রণে উপভোগ্য একটা সিরিজ উপহার দেওয়ার মূল কৃতিত্ব তানিম নূরের। সিরিজের ইন্ট্রোডাকশনে আশি ও নব্বই দশকের ঢাকা শহরের ফুটেজ ব্যবহার হয়েছে। এর ফলে যোগ হয়েছে অন্যমাত্রা। ইন্ট্রোতে বাংলাদেশি ব্যান্ড ইআইডিএ’র ‘নাইটড্রাইভার’ গানটি রয়েছে।

ওয়েব সিরিজটি সাজানো হয়েছে ৯ পর্বে। এগুলোর নাম স্টোরি মোড, চেক পয়েন্ট, দ্য গ্লিচ, নন-প্লেয়ার ক্যারেক্টার, মাল্টিপ্লেয়ার মোড, আরপিজি, আরকেড মুড, বস লেভেল এবং ওয়াক থ্রো। প্রতি পর্বের দৈর্ঘ্য ২০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ৩৯ মিনিট। ৪ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ব্যাপ্তির এই জমজমাট সিরিজটি প্রযোজনা করেছে সিন্ডিকেট ফিল্মস।

কাকতালীয় হলো, ‘কাইজার’-এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নামে চরকিতে মুক্তি পাওয়া ‘সিন্ডিকেট’ ওয়েব সিরিজের মাধ্যমেও আফরান নিশো মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। তার সুবাদেই এটি উপভোগ্য লেগেছে দর্শকদের। আদনান চরিত্রে তার অভাবনীয় পারফরম্যান্স ও লুক আলোচিত হয়েছে। টানটান উত্তেজনা ও থ্রিলারে ভরপুর সিরিজটিতে এই তারকার অভিনয়ের ধারাবাহিকতা, চরিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও অ্যাডাপ্টেশনে মুগ্ধ দর্শকরা।

পুরোপুরি মানসিকভাবে অসুস্থ তরুণের চরিত্রে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন আফরান নিশো। সংলাপ ডেলিভারি, মুখের অভিব্যক্তি এবং সাদাত হোসাইনের ‘কাজল চোখের মেয়ে’ কবিতার আবৃত্তিসহ সবখানেই আদনানকে ধারণ করতে পেরেছেন তিনি।

সিন্ডিকেট

‘সিন্ডিকেট’ ওয়েব সিরিজের অভিনয়শিল্পী (ছবি: ফেসবুক)

সাত পর্বে সাজানো ‘সিন্ডিকেট’ সিরিজের গল্পে দুটি আলাদা সম্পর্ক, আবেগ ও পরিস্থিতি উঠে এসেছে। একদিকে আছে ব্যাংক অব বেঙ্গলে কর্মরত জিশা ও তার প্রেমিক আদনানের ব্যক্তিজীবন। অন্যদিকে আছে একটি গোপন সিন্ডিকেটের ভয়ংকর বেড়াজালে আটকে পড়ার গল্প।

অস্বাভাবিক চরিত্রে আফরান নিশো অনবদ্য। জিশার সহকর্মী আদনান আইটি বিভাগে বসে। সে আর দশজনের মতো স্বাভাবিক নয়। অ্যাসপারগার সিনড্রোম তাকে ব্যতিব্যস্ত রাখে। খুব কাছের মানুষ বাদে সে অন্য কারও আচরণ ও স্পর্শ সহজভাবে নিতে পারে না। আদনান ও জিশা একে অন্যের নির্ভরতায় বিয়ে করতে চায়। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা আলাদা করে দেয় জিশাকে। ওলোটপালট হয়ে যায় আদনানের পৃথিবী। আদনান কীভাবে জিশার বলে যাওয়া কথা ধরে সত্য উন্মোচন করবে সেটাই সিরিজের টাইমলাইন। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি নিগূঢ় সত্য উঠে এসেছে সিরিজে।

প্রথম পর্ব থেকেই চমৎকার গল্পের যথাযথ গতি ও টানটান উত্তেজনায় পরবর্তী পর্ব দেখার আগ্রহ জন্মে। জিশা চরিত্রে নাজিফা তুষি অসাধারণ অভিনয় করেছেন। ব্ল্যাকমেইলে বিপর্যস্ত মেয়ের চোখে-মুখে অস্থিরতা ফুটিয়ে তুলতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। জিশার সঙ্গে একই ব্যাংকে কর্মরত স্বর্ণার ভূমিকায় তাসনিয়া ফারিণকে পরিপূর্ণ মনে হয়েছে। এছাড়া নাসির উদ্দিন খান, শতাব্দী ওয়াদুদ, রাশেদ মামুন অপু, সমু চৌধুরী, এলিনা শাম্মী স্বভাবসুলভ অভিনয় করেছেন।

শিহাব শাহীনের আগের দুই ওয়েব সিরিজ ‘আগস্ট ১৪’ কিংবা ‘মরীচিকা’ অল্প বা বিস্তৃত পরিসরে দেশে ঘটে যাওয়া দুটি সত্যি ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। ফলে দর্শকরা সিরিজ দুটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরেছে অনায়াসে। তবে ডিজাইন, চিত্রনাট্য ও নির্মাণসহ সব মিলিয়ে ‘সিন্ডিকেট’কে শিহাব শাহীনের সেরা সিরিজ বলা যায়। তিনি একটি আবেগপ্রবণ গল্পের সঙ্গে সমসাময়িক ইস্যুর সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন এতে। সিরিজ হিসেবে ‘সিন্ডিকেট’ দেখার মতো কনটেন্ট। পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক কামরুল ইসলাম শুভসহ সবাই মিলে শক্তিশালী সিন্ডিকেটেরই বহিঃপ্রকাশ।

ওটিটি

চাঁদরাতে ফারুকীর ‘মনোগামী’, চঞ্চল-জেফারের খেয়ালি কিংবা বেখেয়ালি ভালোবাসার আভাস

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’তে জেফার রহমান ও চঞ্চল চৌধুরী (ছবি: চরকি)

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’ মুক্তি পাচ্ছে চাঁদরাতে। ইতোমধ্যে এর দুটি টিজার এবং একটি গান এসেছে। এগুলোতে রয়েছে খেয়ালি কিংবা বেখেয়ালি ভালোবাসার আভাস। ওয়েব ফিল্মটিতে মধ্যবয়সী একজনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। তার সঙ্গে থাকছেন সংগীতশিল্পী জেফার রহমান। এবারই প্রথম অভিনয়ে নাম লিখিয়েছেন এই গায়িকা। 

১৫ সেকেন্ডের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, একটি অফিসে সোফায় বসে আছেন চঞ্চল। সামনে দিয়ে শাড়ি পরা জেফার হেঁটে যান। সেদিকে চোখ আটকে থাকে ভদ্রলোকের। তিনি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে মেয়েটিকে দেখার আশায় ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকেন। খেয়াল না থাকায় হঠাৎ তার মাথার সঙ্গে কাচের দেয়ালের গুঁতো লাগে!

এরপর ২৪ সেকেন্ডের আরেকটি দৃশ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, লিফটে দাঁড়িয়ে আছেন চঞ্চল। এরপর জেফার ভেতরে আসতেই তিনি অন্যদিকে ফিরে থাকেন। নভোচারীর মতো লিফটে ওপরে উঠছেন তারা। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের লিফটযাত্রা যেন তাদের কাছে মহাকাশযাত্রার মতো দীর্ঘ ও অস্বস্তিকর লাগছে!

টিজার দুটি দেখে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, দর্শকদের জন্য পেট ভরে হাসার রসদ আছে ‘মনোগামী’তে। তবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, এতে একটি আবেগপ্রবণ দিকও আছে! সেই দিকটি তুলে ধরতে রয়েছে একটি গান। এর শিরোনাম ‘মানুষ কেনো এরকম’। এটি লিখেছেন, সুর করেছেন ও গেয়েছেন আহমেদ হাসান সানি। সংগীতায়োজনে পাভেল আরীন।

চাঁদরাতে মুক্তি উপলক্ষে গতকাল ঢাকার গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় সমবেত হন ‘মনোগামী’র পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা।

(বাঁ থেকে) জেফার রহমান, চঞ্চল চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নুসরাত ইমরোজ তিশা ও রেদওয়ান রনি (ছবি: চরকি)

গত ২৩ মার্চ ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র প্রথম পোস্টার প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, চঞ্চল চৌধুরীর ছবি স্বাভাবিক, তবে জেফারের ছবি উল্টো। পোস্টারের নিচের দিকে লেখা– ‘এক সময়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহিত জীবন যাপনের প্রথা; একবিবাহি, একগামিতা।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র পোস্টারে জেফার রহমান ও চঞ্চল চৌধুরী (ছবি: চরকি)

‘মনোগামী’র লামিয়া চরিত্রে জেফারকে নির্বাচন করা প্রসঙ্গে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, নতুন মুখের কাউকে খুঁজছিলেন তিনি। জেফারের ‘ঝুমকা’ গানটি নিয়মিত না শুনলে খাবার খায় না তার মেয়ে ইলহাম! ফারুকী একদিন খেয়াল করে দেখলেন, লামিয়া চরিত্রে জেফার মানিয়ে যায়। ‘মনোগামী’তে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে অবাক হন তিনি।

জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

জেফারের কথায়, ‘ফারুকী ভাইয়ের সিনেমা ও চঞ্চল ভাইয়ের বিপরীতে অভিনয় করতে হবে, সব মিলিয়ে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। ফারুকী ভাই আমাকে চুলের স্টাইল পরিবর্তন করতে বলায় আরও টেনশনে পড়ে যাই। ১৪ বছর ধরে আমার চুলের স্টাইল একই রকম। ফারুকী ভাইয়ের ওপর বিশ্বাস রেখে সব করেছি।’

চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে শুদ্ধ (ছবি: চরকি)

ওয়েব ফিল্মটিতে চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে অভিনয় করেছে তার ছেলে শুদ্ধ। বাবা-ছেলের চরিত্রেই দেখা যাবে তাদের। এটাই শুদ্ধের প্রথম ফিল্ম। সে বলেছে, ‘বাবার শুটিংয়ে অনেকবার গিয়েছি। এবার নিজের শুটিংয়ে গিয়ে খুব নার্ভাস লেগেছিলো। শুটিংয়ের আগের দিন সারারাত ঘুমাতে পারিনি। বাবার সঙ্গে অভিনয় করে খুব আনন্দ লেগেছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর এই ওয়েব ফিল্মে কাজ করা আমার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’তে রাই, চঞ্চল চৌধুরী ও সামিনা হোসেন প্রেমা (ছবি: চরকি)

‘মনোগামী’র আরেকটি মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নৃত্যশিল্পী সামিনা হোসেন প্রেমা। জেফারের মতো তারও অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে। প্রেমার কন্যা রাই পর্দায় তার মেয়ে হিসেবে থাকছে। ওয়েব ফিল্মটির একটি অংশের শুটিং হয়েছে মেট্রোরেলেই। ভিশন ইলেক্ট্রনিকসের নিবেদনে এবারের ঈদুল ফিতরে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’।

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’তে জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র নির্মাণ ভাবনা প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, “আমার প্রিয় একটি কাজ হচ্ছে মানুষের মনের ভেতর ছিপ ফেলে দেখা কী কী ধরা পড়ে সেখানে। ছোট-বড়, তুচ্ছ-গুরুত্বপূর্ণ সবই আমাকে নাড়া দেয়। ‘মনোগামী’তে অনেকদিন পরে নারী-পুরুষ সম্পর্কের কিছু দিক নিয়ে এই রকম ছিপ ফেলার সুযোগ পেয়েছি। গল্পটি আমাদের মনের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ায়। ফলে এটি হাস্যরস, আবেগ আবার কখনো ট্র্যাজেডির রঙ ধারণ করে, অনেকটা আমাদের জীবনের মতোই!”

ফারুকী যোগ করেন, “ব্যাচেলর জীবনের কিছু দিক কোনো রকম রাখঢাক ছাড়াই ‘ব্যাচেলর’ সিনেমায় দেখাতে পেরেছি। এবারের ফিল্মে বিবাহিত ও প্রবাহিত জীবনের কিছু দিক দেখানোর সুযোগ পেয়েছি।”

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’তে চঞ্চল চৌধুরী (ছবি: চরকি)

ফারুকীর প্রতিষ্ঠান ছবিয়ালের নতুন প্রযোজনা ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’ হলো চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় রয়েছে ১২টি ওয়েব ফিল্ম। এরমধ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ ও শিহাব শাহীনের ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ মুক্তি পেয়েছে। ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’তে জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, “দেখতে দেখতে মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের তৃতীয় সিনেমা মুক্তির পথে। প্রথম দুটি সিনেমা দর্শকেরা পছন্দ করেছেন। আশা করছি, দর্শক এবার মনোগামীর মধ্য দিয়ে আগের ফারুকী ভাইয়ের নির্মাণ খুঁজে পাবেন।”

পড়া চালিয়ে যান

ওটিটি

প্রথমবার ওয়েব সিরিজে জয়া আহসান, বানাবেন আশফাক নিপুন

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

জয়া আহসান ও আশফাক নিপুন (ছবি: ফেসবুক)

দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান প্রথমবার ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছেন। এর নাম ‘জিম্মি’। এটি বানাবেন আশফাক নিপুন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে উপভোগ করা যাবে এই কন্টেন্ট।

টাকার গ্রাফিক্স দিয়ে তৈরি হয়েছে ‘জিম্মি’র টাইটেল। জিম্মির সঙ্গে টাকার সম্পর্ক থাকা স্বাভাবিক। গল্পে দেখা যাবে, সরকারি নিম্নপদস্থ কর্মচারী একজন নারী ১০ বছর ধরে কোনো প্রমোশন পায় না। স্বামী-স্ত্রীর টানাটানির সংসার। উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই নারী একদিন অফিসের স্টোররুমে বড় অঙ্কের টাকার বাক্স পায়। হঠাৎ পাওয়া টাকা নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত লোভের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে সে।

জয়া আহসান (ছবি: ফেসবুক)

সোশ্যাল মিডিয়ায় ওয়েব সিরিজ ঘোষণার ভিডিও শেয়ার দিয়ে জয়া আহসান লিখেছেন, ‌‘শুধু এটুকু বলতে পারি, বানাবেন আশফাক নিপুন। আর বাকিটা… ক্রমশ প্রকাশ্য!’

আশফাক নিপুন (ছবি: ফেসবুক)

‘জিম্মি’সহ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই ২০২৪ সালের জন্য নতুন ছয়টি ওয়েব সিরিজের ঘোষণা দিয়েছে। আজ (২৬ মার্চ) ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত ‘হইচই মিট ২০২৪’ (গল্পের নতুন অধ্যায়) শীর্ষক ভিডিওতে এগুলোর নাম, পরিচালক ও প্রধান চরিত্রের অভিনয়শিল্পীদের নাম জানানো হয়েছে।

‘গল্পের নতুন অধ্যায়’ ভিডিওতে ঘোষিত ছয় ওয়েব সিরিজের দুটি পরিচালনা করছেন ভিকি জাহেদ। এরমধ্যে দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো সিআইডি কর্মকর্তার গল্প নিয়ে সাজানো ‘রুমি’তে নাম ভূমিকায় থাকছেন চঞ্চল চৌধুরী। অন্যদিকে ‘মিথ্যাবাদী’তে অভিনয় করছেন মেহজাবীন চৌধুরী। সিরিজটির গল্পে দেখা যাবে, স্বামীর প্রতি শতভাগ বিশ্বস্ত স্ত্রী। কিন্তু মা হওয়ার চার বছর পর সে জানতে পারে তার স্বামী সন্তান জন্মদানে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম। স্ত্রীর মনে প্রশ্ন, তাহলে তার সন্তান কার! সন্দেহের বশীভূত হয়ে শ্বশুর ও ভাসুরের বিরুদ্ধে মামলা করে সে।

অনম বিশ্বাসের ‘রঙিলা কিতাব’-এ থাকছেন পরীমণি। বরিশালের একটি ছোট শহরের গ্যাংস্টার প্রদীপ প্রথমবারের মতো বাবা হতে যাচ্ছে জানার পরে তার অপরাধ জীবনকে বিদায় বলার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পরের দিনই স্থানীয় এমপিকে হত্যার ঘটনায় অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত হয় প্রদীপ। তারপর থেকে পালিয়ে বেড়ায় প্রদীপ। এখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিজেকে এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পুলিশ ও অজানা বিপদ থেকে রক্ষা করা।

অমিতাভ রেজা চৌধুরীর পরিচালনায় ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া (আট মানে Not)’ সিরিজে প্রধান চরিত্রে থাকছেন মোশাররফ করিম। এতে ট্রাক ড্রাইভার আব্বাস চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। সে দুর্দান্ত প্রেমিক মানুষ। সাত জেলায় থাকা সাত বউকে একে অপরের কাছ থেকে গোপন রেখে সে সুনিপুণভাবে সাত সংসার সামলায়। এদিকে একজন বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়ে হওয়া থেকে সদ্য যুবতী সুন্দরীকে বাঁচানোর পর সুন্দরী আব্বাসের প্রেমে পড়ে ও তাকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু আব্বাস জানে আট মানে সর্বনাশ তাই সুন্দরীকে বিয়ে করতে না চাইলেও একপ্রকার বাধ্য হয়ে বিয়ে করতে হয় তাকে। এরপর শুরু হয় গণ্ডগোল। আব্বাসের সাত সংসারে শুরু হয় বিভিন্ন রকম ঝামেলা।

হইচইয়ের ‘বুকের মধ্যে আগুন’ সিরিজের জনপ্রিয় চরিত্র গোলাম মামুন হয়ে ফিরছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। ‘গোলাম মামুন’ নামের সিরিজটির গল্পে দেখা যাবে, নিজের আততায়ীকে খুনের দায়ে আটক হয় মামুন, সেই সঙ্গে বন্ধু দম্পতির খুনেও জড়িয়ে যায় তার নাম। আইনরক্ষক মামুনকে আইন ভেঙে পুলিশের হাত থেকে পালাতে হয় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে। কিন্তু বাইরে অপেক্ষা করছে আরো বড় বিপদ। ‘বুকের মধ্যে আগুন’ তানিম রহমান অংশু পরিচালনা করলেও ‘গোলাম মামুন’ বানাচ্ছেন শিহাব শাহীন।

প্রতিবছর বাংলাদেশি কন্টেন্টের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা উদযাপনের জন্য আয়োজন করা হয় ‘হইচই মিট’। এর মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের কনটেন্ট এবং প্রতিভাবান শিল্পীদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে হইচই।

এ প্রসঙ্গে হইচই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাকিব আর খান বলেন, “হইচই বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ‘ঢাকা মেট্রো’ সিরিজ দিয়ে যাত্রা শুরু করে। এরপর আরো ১৮টি সিরিজ মুক্তি পেয়েছে এতে, যেগুলো বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে হইচইয়ের লক্ষ্য সারা পৃথিবীতে বাংলা ভাষায় কথা বলা মানুষের কাছে নিজেদের ভাষায় মানসম্মত বিনোদন পৌঁছে দেওয়া। দর্শকদের জন্য হইচই সহজলভ্য করতে আমরা ইতোমধ্যে গ্রামীণফোন, রবি এবং বাংলালিংকের সঙ্গে একাত্ম হয়েছি। পাশাপাশি আমরা দর্শকদের জন্য পছন্দসই কনটেন্ট নির্মাণের উদ্দেশে বাংলাদেশের খ্যাতিমান নির্মাতা এবং অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা এ বছর ছয়টি কন্টেন্টের ঘোষণা দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরো বাড়বে।”

পড়া চালিয়ে যান

ওটিটি

ওলট-পালট চঞ্চল-জেফার, ঈদে ফারুকীর ‘মনোগামী’

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী ও জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

ঈদে ‘ইদানীং’-এর সম্পর্ক নিয়ে আসছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’। ওয়েব ফিল্মটিতে মধ্যবয়সী একজনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। তার সঙ্গে থাকছেন সংগীতশিল্পী জেফার রহমান। এবারই প্রথম অভিনয়ে নাম লিখিয়েছেন এই গায়িকা।

গতকাল (২৩ মার্চ) ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র প্রথম পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে। এতে চঞ্চল চৌধুরীর ছবি স্বাভাবিক, তবে জেফারের ছবি উল্টো। পোস্টারের নিচের দিকে লেখা– ‘এক সময়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহিত জীবন যাপনের প্রথা; একবিবাহি, একগামিতা।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র পোস্টারে জেফার রহমান ও চঞ্চল চৌধুরী (ছবি: চরকি)

অভিনয় প্রসঙ্গে জেফার বলেন, ‘একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছি। তবে এবার অভিনেত্রী হিসেবে দেখা যাবে আমাকে। আমার জন্য ঘটনাটি নিঃসন্দেহে আনন্দের, তবে চ্যালেঞ্জিংও বটে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় অভিনয় করা এবং সহশিল্পী হিসেবে চঞ্চল চৌধুরীকে পাওয়া বলা যায় কিছুটা চাপের এবং একইসঙ্গে রোমাঞ্চকর।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র দৃশ্যে জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

জেফারকে দিয়ে অভিনয় করানো প্রসঙ্গে ফারুকীর মন্তব্য, ‘জেফার গানের লোক। এটাই তার প্রথম অভিনয়। তাকে পাওয়ার ফলে ফিল্মের গল্প প্রাণবন্ত হয়েছে।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী (ছবি: চরকি)

চঞ্চলের ব্যাপারে ফারুকীর মন্তব্য, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বহু পুরনো। এখনো একই রকম অপ্রতিরোধ্য তিনি। চঞ্চল ভাই তার দুর্দান্ত কারিশমা দিয়ে বিচিত্র মুহূর্তগুলোকে জলবৎ তরলং করে দিয়েছেন।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী ও জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

চঞ্চলের কথায়, ‘২০০৫ সালে ফারুকী ভাইয়ের নির্দেশনায় একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করার মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার ঘুরে যায়। তার সঙ্গে প্রায় ২০ বছরের কাজের সম্পর্ক। ফারুকী ভাইয়ের সব গল্পে আলাদা মাত্রা থাকে। এবারের ফিল্মে দর্শকদের ভাবানোর মতো কিছু মনস্তাত্ত্বিক দিক আছে। নতুন নতুন চরিত্র খুঁজে বেড়ানো আমার নেশা। তাই এতে আমার চরিত্রের লুক, গেট-আপ যথারীতি ভিন্ন।’

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (ছবি: চরকি)

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র নির্মাণ ভাবনা প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, “আমার প্রিয় একটি কাজ হচ্ছে মানুষের মনের ভেতর ছিপ ফেলে দেখা কী কী ধরা পড়ে সেখানে। ছোট-বড়, তুচ্ছ-গুরুত্বপূর্ণ সবই আমাকে নাড়া দেয়। ‘মনোগামী’তে অনেকদিন পরে নারী-পুরুষ সম্পর্কের কিছু দিক নিয়ে এই রকম ছিপ ফেলার সুযোগ পেয়েছি। গল্পটি আমাদের মনের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ায়। ফলে এটি হাস্যরস, আবেগ আবার কখনো ট্র্যাজেডির রঙ ধারণ করে, অনেকটা আমাদের জীবনের মতোই!”

ফারুকী যোগ করেন, “ব্যাচেলর জীবনের কিছু দিক কোনো রকম রাখঢাক ছাড়াই ‘ব্যাচেলর’ সিনেমায় দেখাতে পেরেছি। এবারের ফিল্মে বিবাহিত ও প্রবাহিত জীবনের কিছু দিক দেখানোর সুযোগ পেয়েছি।”

‘লাস্ট ডিফেন্ডার অব মনোগামী’র দৃশ্যে জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

ভিশন ইলেক্ট্রনিকসের নিবেদনে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’। এতে আরো অভিনয় করেছেন নৃত্যশিল্পী সামিনা হোসেন প্রেমা। তারও অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে।

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র দৃশ্যে জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

ফারুকীর প্রতিষ্ঠান ছবিয়ালের নতুন প্রযোজনা ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’ হলো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় রয়েছে ১২টি ওয়েব ফিল্ম। এরমধ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ ও শিহাব শাহীনের ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ মুক্তি পেয়েছে। ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

পড়া চালিয়ে যান

সিনেমাওয়ালা প্রচ্ছদ