Connect with us

কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

কান ২০২৩: ক্রিটিকস উইকের সর্বোচ্চ পুরস্কার জিতলেন মালয়েশিয়ান নারী

সিনেমাওয়ালা ডেস্ক

Published

on

‘টাইগার স্ট্রাইপস’ সিনেমার দৃশ্য (ছবি: গোস্ট গার্ল পিকচার্স)

কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্যারালাল শাখা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইকের (সিমেন দ্যু লা ক্রিটিক) ৬২তম আসরের গ্র্যান্ড প্রাইজ জিতলো মালয়েশিয়ান নারী আমান্ডা নেল ইউ পরিচালিত ‘টাইগার স্ট্রাইপস’। গতকাল (২৪ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

‘টাইগার স্ট্রাইপস’ সিনেমার গল্প ১২ বছর বয়সী বালিকা জাফফানকে কেন্দ্র করে। মালয়েশিয়ার ছোট একটি গ্রামে থাকে সে। পূর্ণ বয়ঃসন্ধিতে মেয়েটি বুঝতে পারে, তার শরীর উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে। এদিকে স্কুলে মৃগীরোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার কারণে বন্ধুরা তাকে এড়িয়ে চলে। মেয়েদের পিছু নেওয়া সেই রাক্ষসকে তাড়াতে এগিয়ে আসেন একজন চিকিৎসক।

১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘টাইগার স্ট্রাইপস’ হলো কৈশোরের রূপান্তর এবং আনন্দময় মুক্তির গল্প। তারুণ্যের নারীত্বকে উদযাপন করা হয়েছে এতে।

পরিচালক আমান্ডা নেল ইউ জানান, জাফফান চরিত্রের জন্য করোনাকালে দুই শতাধিক মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। সামাজিক দূরত্বের কারণে স্কুলে যেতে না পেরে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে মেয়েদের খুঁজে পান তিনি।

জাফফান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাফরিন জাইরিজাল। তার সঙ্গে সবার প্রথমে দেখা করেন আমান্ডা নেল ইউ। প্রথম দিন থেকেই তার মনে হয়েছে, মেয়েটির ভেতরে থাকা কাঙ্ক্ষিত আগুন জ্বলে উঠতে প্রস্তুত।

আমান্ডা নেল ইউ (ছবি: সিমেন দ্যু লা ক্রিটিক)

আমান্ডা নেল ইউ বলেন, ‘শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্কে রূপান্তরের সময় আমরা সকলেই শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাই। আমরা যাকে বয়ঃসন্ধি বলি, সেই কষ্টকর সময়ের কথা ভেবেই সিনেমাটির ধারণা পেয়েছি। আমার কাছে বয়ঃসন্ধির অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো লাগতো না। মনে পড়ে, আমার শরীরে নতুন কিছু আবিষ্কার করে বাজেভাবে চেয়েছিলাম সেগুলো দূর হয়ে যাক। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, মানুষ এসব পরিবর্তনে নজর দিলে এবং আমার শরীর নিয়ে কথা বললে খুব খারাপ লাগতো। নিজেকে তখন অস্বস্তিকর, অনিরাপদ এবং মাঝে মধ্যে বীভৎস মনে হতো। আমি মনে করি, মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে লিঙ্গ সমতা নিয়ে এখনও সমস্যা রয়ে গেছে। যদিও এই গল্প আমার দেশের, তবে নারীদের বিষয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে একটি বিশাল সার্বজনীন সমস্যা বিদ্যমান।’

আমান্ডা নেল ইউ ১৯৮৫ সালের ২৬ নভেম্বর কুয়ালালামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। লন্ডন ফিল্ম স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। তার শর্টফিল্ম “ইট’স ইজিয়ার টু রেইজ ক্যাটেল”-এর প্রিমিয়ার হয় ২০১৭ সালে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রতিযোগিতা শাখায়। এরপর আন্তর্জাতিক শর্টফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ক্লেরমোঁ-ফেরোতে স্পেশাল মেনশন পায় এটি। বার্লিনাল ট্যালেন্ট ক্যাম্পাস এবং লোকার্নো ফিল্মমেকার অ্যাকাডেমির একজন সাবেক শিক্ষার্থী তিনি। ‘টাইগার স্ট্রাইপস’ তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা।

আমান্ডা নেল ইউ (ছবি: সিমেন দ্যু লা ক্রিটিক)

মালয়েশিয়ান এই নির্মাতা যোগ করেন, ‘সিনেমার প্রতি আমার আবেগের শুরুটা ছিলো হররকেন্দ্রিক। সত্যিই এই ধারা ভালো লাগে আমার। কারণ এর মাধ্যমে প্রাণচাঞ্চল্য ও আমার রসাত্মক দিকটি প্রকাশ করতে পারি। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সংস্কৃতির অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের প্রতি আমি কৌতূহলী। এসব লোকগল্প আমাদের সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত।’

গত ১৭ মে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে, বিকেল ৫টায় ও রাত ১০টা ৩০ মিনিটে মিরামার থিয়েটারে এবং ১৮ মে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে মিরামার থিয়েটারে, বিকেল ৩টায় স্টুডিও থার্টিন থিয়েটারে এবং রাত ৯টা ৩০ মিনিটে আলেকজান্ডার থ্রি থিয়েটারে ‘টাইগার স্ট্রাইপস’ সিনেমার প্রদর্শনী হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইকের পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা শাখার বিচারকরা (ছবি: সিমেন দ্যু লা ক্রিটিক)

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইকে জুরি সভাপতি ছিলেন ফরাসি নারী অড্রে ডিওয়ান। তার নেতৃত্বে বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র কিউরেটর, সমালোচক ও নির্মাতা মিনাক্ষী শেড্ডা, জার্মান অভিনেতা ফ্রাঞ্জ রোগোস্কি, পর্তুগিজ চিত্রগ্রাহক রুই পোকাস এবং সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রোগ্রাম পরিচালক কিম ইউতানি।

গত ১৭ মে কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭৬তম আসরের দ্বিতীয় দিন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইকের পর্দা ওঠে। আজ (২৫ মে) প্যারালাল শাখাটির সমাপনী দিনে পুরস্কৃত সিনেমাগুলোর প্রদর্শনী হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইকে নির্বাচিত পূর্ণদৈর্ঘ্য ও শর্টফিল্মের পরিচালকরা (ছবি: সিমেন দ্যু লা ক্রিটিক)

নির্বাচিত সিনেমার মধ্যে আরো ছিলো বেলজিয়ান নারী পালোমা সারমন-দাই পরিচালিত “ইট’স রেইনিং ইন দ্য হাউস”, সার্বিয়ার ভ্লাদিমির পেরিসিচের ‘লস্ট কান্ট্রি’, জর্ডানের আমজাদ আল রশীদের ‘ইনশাল্লাহ অ্যা বয়’, ফরাসি নারী ইরিস ক্যালটেনব্যাক পরিচালিত ‘দ্য র‌্যাপচার’, ব্রাজিলিয়ান নারী লিলা হালার ‘পাওয়ার অ্যালি’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জেসন ইউ পরিচালিত ‘স্লিপিং’।

শর্টফিল্ম প্রতিযোগিতায় স্থান পেয়েছে ফ্রান্সের ন্যঁ ল্যাবোর-দ্যুজুরদা পরিচালিত ‘বোলেরো’, মেক্সিকোর আরমান্দো নাভারোর ‘আর্খি’, স্পেনের ইরাতি গোরোস্তিদি আগিরেৎজে পরিচালিত ‘কোন্তাদোরেস’, পর্তুগিজ নারী ইনিস তেশেইরার ‘শাইনিং বডিস’, মিসরের মুরাদ মোস্তফার ‘আই প্রমিজ ইউ প্যারাডাইস’, পোল্যান্ডের ডেভিড বদজাকের ‘দ্য ক্রোকোডাইল’, ফরাসি নারী ক্লেমোঁন্স বুশোঁরো পরিচালিত ‘দ্য পারপল সিজন’, ক্রোয়েশিয়ান নারী আন্দ্রেয়া স্লাভিচেকের ‘দ্য রিয়েল ট্রুথ অ্যাবাউট দ্য ফাইট’, ইসরায়েলি নারী র‌্যাচেল গাটগার্টসের ‘ভিয়া দোলোরোসা’ (ফ্রান্স) এবং চীনের হুই শু পরিচালিত ‘ওয়াকিং উইথ হার ইন্টু দ্য নাইট’।

কান উৎসবে প্যারালাল শাখা হিসেবে ১৯৬২ সালে যুক্ত হয় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইক। ফরাসি চলচ্চিত্র সমালোচকদের চালু করা এই শাখায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পরিচালকদের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সিনেমা নির্বাচিত হয়ে থাকে। এগুলো কান উৎসব আয়োজকদের স্বীকৃতি পায়। যেমন ক্যামেরা দ’র পুরস্কারের জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইকে নির্বাচিত নবাগত পরিচালককে মনোনয়নে রাখা হয়। এছাড়া এই শাখাকে পুরস্কারের বেলায় বিবেচনায় রাখে ফিল্ম সমালোচকদের আন্তর্জাতিক ফেডারেশন ফিপরেসি।

‘টাইগার স্ট্রাইপস’ সিনেমার দৃশ্য (ছবি: গোস্ট গার্ল পিকচার্স)

৬২তম ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস উইকের বিজয়ী তালিকা
গ্র্যান্ড প্রাইজ (গ্রাঁ প্রিঁ): টাইগার স্ট্রাইপস (আমান্ডা নেল ইউ, মালয়েশিয়া)
ফ্রেঞ্চ টাচ জুরি প্রাইজ: ইট’স রেইনিং ইন দ্য হাউস (পালোমা সারমন-দাই, বেলজিয়াম)
লাইৎজ সিনে ডিসকোভারি প্রাইজ (শর্ট ফিল্ম): বোলেরো (ন্যঁ ল্যাবোর-দ্যুজুরদা, ফ্রান্স)
লুই রোদ্যুরের ফাউন্ডেশন রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড: জোভান গিনিচ (লস্ট কান্ট্রি, সার্বিয়া)
গ্যান ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড ফর ডিস্ট্রিবিউশন: ইনশাল্লাহ অ্যা বয় (আমজাদ আল রশীদ, জর্ডান)
ক্যানাল প্লাস অ্যাওয়ার্ড (শর্ট ফিল্ম): বোলেরো (ন্যঁ ল্যাবোর-দ্যুজুরদা, ফ্রান্স)
এসএসিডি অ্যাওয়ার্ড: দ্য র‌্যাপচার (ইরিস ক্যালটেনব্যাক, ফ্রান্স)

কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

ফিলিপাইনের শর্টফিল্মের জন্য কানে আমন্ত্রিত বাংলাদেশের দুই নির্মাতা

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

আদনান আল রাজীব, ‘র‌্যাডিক্যালস’ শর্টফিল্মের পোস্টার, তানভীর হোসেইন (ছবি: রানআউট ফিল্মস, গ্রিন স্ক্রিন)

কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্যারালাল শাখা ক্রিটিকস’ উইকের ৬৩তম আসরে প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হলো ১০টি শর্টফিল্ম। এরমধ্যে ‘র‌্যাডিক্যালস’ সহ-প্রযোজনা করেছেন বাংলাদেশি দুই নির্মাতা আদনান আল রাজীব ও তানভীর হোসেইন। আজ (১৮ এপ্রিল) রাতে সুখবরটি জানিয়েছেন তারা। এরপর থেকে দুইজনই অভিনন্দনে ভাসছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আদনান আল রাজীব ও তানভীর হোসেইন লিখেছেন, “কানের অংশ হতে পেরে সত্যি আমরা রোমাঞ্চিত ও সম্মানিত। আমরা ফিলিপাইনের শর্টফিল্ম ‘র‌্যাডিক্যালস’ যৌথভাবে প্রযোজনা করেছি। পরিচালনা করেছেন আরভিন বেলারমিনো। তিনি ও কাইলা রোমেরো চিত্রনাট্য লিখেছেন। ৬৩তম স্যুমেন দ্যু লা ক্রিতিকে এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে। অসাধারণ প্রযোজক ক্রিস্টিন ডি লিওনকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।”

‘র‌্যাডিক্যালস’ শর্টফিল্মের দৃশ্য (ছবি: রানআউট ফিল্মস)

সবশেষে ক্রিটিকস’ উইকের প্রধান নির্বাহী আভা কায়েনের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আদনান আল রাজীব ও তানভীর হোসেইন। রাজীবের স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘দারুণ খবর!’

আদনান আল রাজীবকে উদ্দেশ করে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশিদের নাম দেখা আমাদের জন্য গর্বের। যেকোনও শিল্পীর জন্য এটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো এবং এখন আপনার নাম দেখছি। মনে পড়ে আমাকে বলেছিলেন, প্রযোজক হিসেবে কাজ করতে আপনি কতটা উৎসাহী এবং এই কাজ করতে কতোটা ভালো লাগে আপনার। আবার সেটি প্রমাণিত হলো: আপনি যখন ভালো লাগার মতো কাজ করেন, সাফল্য ঠিকই ধরা দেয়। সময় এখন আপনার আদনান আল রাজীব। উড়তে থাকুন!’

‘র‌্যাডিক্যালস’ শর্টফিল্মের দৃশ্য (ছবি: রানআউট ফিল্মস)

স্যুমেন দ্যু লা ক্রিতিকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আদনান আল রাজীবের ফোন নম্বর ও তার প্রতিষ্ঠান রানআউট ফিল্মস এবং তানভীর হোসেইনের ফোন নম্বর ও তার প্রতিষ্ঠান গ্রিন স্ক্রিনের নাম উল্লেখ রয়েছে। ছবিটি অন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ক্রিস্টিন ডি লিওনের ওয়াফ স্টুডিওস, ডমিনিক ওয়েলিনস্কির ডিডব্লিউ, গি গঞ্জালেসের অ্যা ফোর্সফুল টাইড প্রোডাকশন, ম্যাক্স নিসের নাইন ফিল্মস।

আরভিন বেলারমিনো সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন এভাবে, “আমাদের কাজ ও দর্শনকে বিশ্বাস করার জন্য কান ক্রিটিকস’ উইককে ধন্যবাদ। আমরা ভীষণ সম্মানিত। পুরো টিমের প্রতি আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা, যারা ছবিটি তৈরির জন্য উৎসাহী ও আন্তরিক ছিলেন।”

‘র‌্যাডিক্যালস’ শর্টফিল্মের দৃশ্য (ছবি: রানআউট ফিল্মস)

‘র‌্যাডিক্যালস’ শর্টফিল্মের গল্পে দেখা যাবে, একটি মোরগ-নৃত্যদলের আনাড়ি এক তরুণ বাজে নাচের কারণে উপহাসের মুখে পড়ে। একের পর এক অদ্ভুত ঘটনার সম্মুখীন হয়ে সে বুঝতে পারে দলটি তাদের দুর্বলতাকে কীভাবে উতরে ওঠে। এতে অভিনয় করেছেন টিমোথি কাস্তিলো, রস পেসিগ্যান, এলোরা এসপানো।

পড়া চালিয়ে যান

কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

কানসৈকতে ৯ বছর পর ফিরছে ‘ফিউরিওসা’

সিনেমাওয়ালা ডেস্ক

Published

on

‘ফিউরিওসা: অ্যা ম্যাড ম্যাক্স সাগা’র দৃশ্যে আনিয়া টেলর-জয় (ছবি: ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স)

কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭৭তম আসরের অফিসিয়াল সিলেকশনে প্রথমে যুক্ত হলো ‘ফিউরিওসা: অ্যা ম্যাড ম্যাক্স সাগা’। আগামী ১৫ মে প্রতিযোগিতার বাইরে এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে। পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকবেন সিনেমাটির পরিচালক জর্জ মিলার, আমেরিকান অভিনেত্রী আনিয়া টেলর-জয়, অস্ট্রেলিয়ান অভিনেতা ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও ব্রিটিশ অভিনেতা টম বার্ক।

২০১৫ সালে কান উৎসবের প্রতিযোগিতার বাইরে দেখানো হয় ‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’। সেই সিনেমার প্রিক্যুয়েল হিসেবে ৯ বছর পর তৈরি হয়েছে ‘ফিউরিওসা: অ্যা ম্যাড ম্যাক্স সাগা’। সব মিলিয়ে ‘ম্যাড ম্যাক্স’ ফ্রাঞ্চাইজের পঞ্চম কিস্তি এটি। অন্য সিনেমাগুলো হলো– ‘ম্যাড ম্যাক্স’ (১৯৭৯), ‘ম্যাড ম্যাক্স টু: দ্য চ্যালেঞ্জ’ (১৯৮১), ‘ম্যাড ম্যাক্স: বিয়ন্ড থান্ডারডোম’ (১৯৮৫)। সবই পরিচালনা করেছেন জর্জ মিলার।

‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’ পাঁচটি শাখায় অস্কার জিতেছে। এতে ফিউরিওসা চরিত্রে অভিনয় করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকান-আমেরিকান তারকা শার্লিজ থেরন। কে এই ফিউরিওসা? তার শৈশব থেকে কৈশোরে পরিণত হওয়ার গল্প দেখা যাবে এবার। নতুন সিনেমায় নাম ভূমিকায় থাকছেন আনিয়া টেলর-জয়। লুটেরা দলের অন্যতম সদস্যের ভূমিকায় দেখা দেবেন ‘থর’ তারকা ক্রিস হেমসওয়ার্থ। এছাড়া আছেন অস্ট্রেলিয়ান তিন অভিনেতা লকি হিউম, নাথান জোন্স ও জন হাওয়ার্ড।

‘ফিউরিওসা: অ্যা ম্যাড ম্যাক্স সাগা’র শুটিংয়ে আনিয়া টেলর-জয়, জর্জ মিলার ও ক্রিস হেমসওয়ার্থ (ছবি: ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স)

নতুন পর্বে থাকছে ‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’-এর ১৫-২০ বছর আগের গল্প, যখন অল্প বয়সী মেয়ে ফিউরিওসাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় লুটেরা বাহিনী। তার মা লড়াকু মনোভাবের। মেয়েকে সেভাবেই তৈরি করেছেন তিনি। মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ভয়ঙ্কর সব বাধা পেরিয়ে ঘরে ফেরার রুদ্ধশ্বাস পথচলা শুরু করে ফিউরিওসা।

কান উৎসবে প্রদর্শনীর পর আগামী ২২ মে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির পরিবেশনায় ফ্রান্সে এবং আগামী ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাবে ‘ফিউরিওসা: অ্যা ম্যাড ম্যাক্স সাগা’। এটি প্রযোজনা করেছেন ডগ মিচেল ও জর্জ মিলার। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন জর্জ মিলার ও নিকো লাথাউরিস।

‘ফিউরিওসা: অ্যা ম্যাড ম্যাক্স সাগা’র পোস্টার (ছবি: ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স)

২০১৬ সালে কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৬৯তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা শাখার বিচারকদের প্রধান ছিলেন জর্জ মিলার। সর্বশেষ ২০২২ সালে ৭৫তম কান উৎসবে তার পরিচালিত ‘থ্রি থাউজেন্ড ইয়ারস অব লংগিং’ দেখানো হয় প্রতিযোগিতার বাইরে। আবার কানসৈকতে ফিরতে পারছেন বলে রোমাঞ্চিত ৭৯ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান নির্মাতা।

‘ফিউরিওসা: অ্যা ম্যাড ম্যাক্স সাগা’র পোস্টার (ছবি: ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স)

এবারের কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭৭তম আসরের পুরো অফিসিয়াল সিলেকশন ঘোষণা করা হবে আগামী ১১ এপ্রিল। আগামী ১৪ মে উৎসবটির উদ্বোধন হবে। দক্ষিণ ফ্রান্সে ভূমধ্যসাগরের তীরে ১১ দিনের মহাযজ্ঞ চলবে ২৫ মে পর্যন্ত।

পড়া চালিয়ে যান

কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

কান ২০২৪: উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন যিনি

সিনেমাওয়ালা ডেস্ক

Published

on

ক্যামিল কোতাঁন (ছবি: কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল)

কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭৭তম আসরে মিস্ট্রেস অব সিরিমনিস থাকছেন ফরাসি অভিনেত্রী ও কমেডিয়ান ক্যামিল কোতাঁন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সমাপনী আয়োজন সঞ্চালনা করবেন তিনি। আয়োজকরা গতকাল (১৫ মার্চ) সোশ্যাল মিডিয়ায় এই তথ্য জানিয়েছে।

কানের অফিসিয়াল সিলেকশনে ক্যামিল কোতাঁনের দুটি সিনেমা জায়গা পেয়েছে। ২০১৯ সালে আঁ সার্তাঁ রিগা শাখায় ছিল ক্রিস্তফ অঁনোরে পরিচালিত ‘অন অ্যা ম্যাজিক্যাল নাইট’। ২০২১ সালে প্রতিযোগিতার বাইরে দেখানো হয় টম ম্যাককার্থি পরিচালিত ও ম্যাট ডেমন অভিনীত ‘স্টিলওয়াটার’।

ক্যামিল কোতাঁন মূলত ফরাসি কমেডি ধাঁচের সিনেমা ও টিভি সিরিজের পরিচিত মুখ। ‘স্টিলওয়াটার’সহ আমেরিকান কয়েকটি প্রযোজনায় কাজ করেছেন ৪৫ বছর বয়সী এই তারকা। রবার্ট জেমেকিস পরিচালিত ও ব্র্যাড পিট অভিনীত ‘অ্যালাইড’ (২০১৬) ইংরেজি ভাষায় তার প্রথম সিনেমা।

রিডলি স্কট পরিচালিত ‘হাউস অব গুচি’তে (২০২১) ইতালিয়ান ফ্যাশন ডিজাইনার মাউরিৎসিও গুচির প্রেমিকা পাওলা ফ্রাঞ্চি চরিত্রে অভিনয় করেন ক্যামিল কোতাঁন। হলিউডে তার কাজের তালিকায় আরও আছে কেনেথ ব্রানা পরিচালিত ‘অ্যা হন্টিং ইন ভেনিস’ (২০২৩)।

ক্যামিল কোতাঁন (ছবি: কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল)

সর্বশেষ গত বছর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারের ব্যক্তিগত সহকারী লু কাড্ডার চরিত্রে দেখা গেছে ফরাসি এই তারকাকে। ৭৪তম বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মূল প্রতিযোগিতায় স্বর্ণভালুকের জন্য লড়েছে ব্রুনো দ্যুমোঁর পরিচালনায় তার অভিনীত ‘দ্য এম্পায়ার’।

ভূমধ্যসাগরের তীরে দক্ষিণ ফ্রান্সের কান শহরের পালে দে ফেস্টিভ্যাল ভবনের গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে উৎসবটির পর্দা উঠবে আগামী ১৪ মে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্যামিল কোতাঁন একে একে মূল প্রতিযোগিতা শাখার বিচারকদের স্বাগত জানাবেন। এবারের জুরি প্রেসিডেন্ট থাকছেন ‘বার্বি’র পরিচালক গ্রেটা গারউইগ। আগামী ২৫ মে কানের সমাপনী আয়োজনেও সঞ্চালক থাকবেন ক্যামিল কোতাঁন।

পড়া চালিয়ে যান

সিনেমাওয়ালা প্রচ্ছদ