Connect with us

ওটিটি

ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘শনিবার বিকেল’

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার দৃশ্যে জাহিদ হাসান (ছবি: ছবিয়াল)

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত বহুল আলোচিত ‘শনিবার বিকেল’ সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকায় বাংলাদেশে মুক্তি দেওয়া গেলো না শেষ পর্যন্ত। তবে বিদেশের সিনেমাহলের পর এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

গতকাল (২২ নভেম্বর) রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, আগামী ২৪ নভেম্বর ‘শনিবার বিকেল’ অবশেষে ওটিটিতে আসছে। ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে দেখা যাবে! এজন্য তার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার দৃশ্যে নুসরাত ইমরোজ তিশা (ছবি: ফেসবুক)

ফারুকীর স্ট্যাটাসের ঘণ্টাখানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সনি লিভের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টগুলোতে ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। এর ক্যাপশনে লেখা, ‘এক শান্ত বিকেল হয়ে উঠলো দুঃস্বপ্নময়! রেস্টুরেন্টে কী ঘটছে সেই শনিবার বিকেলবেলায়?’

মস্কো আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘শনিবার বিকেল’-এর কমেরসান্ত অ্যাওয়ার্ড ও ক্রিটিকস জুরি অ্যাওয়ার্ড জয়ের কথা উল্লেখ করেছে সনি লিভ। এসব অর্জন ছাড়াও ভেসুল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড ও হাইস্কুল জুরি অ্যাওয়ার্ড, ফুকুওকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে কুমামোতো সিটি অ্যাওয়ার্ডসহ বেশকিছু পুরস্কার পেয়েছে সিনেমাটি। এছাড়া মিউনিখ, সিডনিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এটি।

‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার দৃশ্যে ইন্তেখাব দিনার, ইরেশ যাকের ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (ছবি: ছবিয়াল)

চলতি বছরের ১০ মার্চ উত্তর আমেরিকায় মুক্তি পায় ‘শনিবার বিকেল’। আমেরিকার ৬০টি এবং কানাডায় ৯টি মিলিয়ে ৬৯টি সিনেমাহলে এটি চলেছে। রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সিনেমাটি মুক্তি দিয়েছে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কন্টিনেন্টাল এন্টারটেইনমেন্ট পিটিই লিমিটেড (সিইপিএল)।

‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার দৃশ্য (ছবি: ছবিয়াল)

২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ‘শনিবার বিকেল’-এর সূত্র। চার বছর ধরে সেন্সর বোর্ডে আটকে রাখা হয়েছে বাংলা ও ইংরেজি ভাষার সিনেমাটি। গত ফেব্রুয়ারিতে ফিল্ম সেন্সর আপিল কমিটির সদস্যরা জানান, এটি মুক্তিতে বাধা নেই। তবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এখনো বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে।

‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার দৃশ্য

‘শনিবার বিকেল’ সিনেমার দৃশ্য (ছবি: ফেসবুক)

‘শনিবার বিকেল’ যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ছবিয়াল এবং জার্মানির ট্যানডেম প্রোডাকশন। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, জাহিদ হাসান, মামুনুর রশীদ, ইরেশ যাকের, ভারতের পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ফিলিস্তিনের ইয়াদ হুরানি, ইউরোপের এলি পুসো, সেলিনা ব্ল্যাক প্রমুখ।

‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ সিনেমার দৃশ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (ছবি: চরকি)

এদিকে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সোশ্যাল মিডিয়ায় আরেকটি সুখবর দিয়েছেন। আগামী ৩০ নভেম্বর চরকিতে আসছে তার পরিচালিত ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’। এর মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। পর্দায়ও দম্পতির ভূমিকায় দেখা যাবে তাদের। সিনেমাটির চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন তারাই। দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৮তম বুসান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ভারতে মুম্বাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রশংসিত হয়েছে এটি।

‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’র মুক্তি উপলক্ষে গত ২০ নভেম্বর চরকির অফিসিয়াল পেজে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এতে ফারুকীর সঙ্গে দেখা গেছে গীতিকবি-অভিনয়শিল্পী মারজুক রাসেল, অভিনেতা-উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়, অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান, চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও নির্মাতা-অভিনেতা আশুতোষ সুজনকে। শোনা যাচ্ছে, তাদের নিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনের জন্য ‘৮৪০’ নামের একটি ওয়েব সিরিজ তৈরি করছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ঢাকার বাইরে এর শুটিং চলছে। শুটিংয়ের ফাঁকে ভিডিওটির কাজ করেছেন তারা।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (ছবি: চরকি)

গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বিভ্রান্তি এড়াতে জানান, তার ২০০৭ সালের ধারাবাহিক নাটক ‘৪২০’-এর সিক্যুয়েল নির্মাণের খবর সত্যি নয়। এটি পুরো ভুল খবর। তিনি লিখেছেন, “আমরা ‘৪২০’-এর কোনো সিক্যুয়েল করছি না। প্রকৃত খবর কী সেটি সময় হলে আমরাই জানাবো!”

ওটিটি

চাঁদরাতে ফারুকীর ‘মনোগামী’, চঞ্চল-জেফারের খেয়ালি কিংবা বেখেয়ালি ভালোবাসার আভাস

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’তে জেফার রহমান ও চঞ্চল চৌধুরী (ছবি: চরকি)

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’ মুক্তি পাচ্ছে চাঁদরাতে। ইতোমধ্যে এর দুটি টিজার এবং একটি গান এসেছে। এগুলোতে রয়েছে খেয়ালি কিংবা বেখেয়ালি ভালোবাসার আভাস। ওয়েব ফিল্মটিতে মধ্যবয়সী একজনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। তার সঙ্গে থাকছেন সংগীতশিল্পী জেফার রহমান। এবারই প্রথম অভিনয়ে নাম লিখিয়েছেন এই গায়িকা। 

১৫ সেকেন্ডের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, একটি অফিসে সোফায় বসে আছেন চঞ্চল। সামনে দিয়ে শাড়ি পরা জেফার হেঁটে যান। সেদিকে চোখ আটকে থাকে ভদ্রলোকের। তিনি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে মেয়েটিকে দেখার আশায় ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকেন। খেয়াল না থাকায় হঠাৎ তার মাথার সঙ্গে কাচের দেয়ালের গুঁতো লাগে!

এরপর ২৪ সেকেন্ডের আরেকটি দৃশ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, লিফটে দাঁড়িয়ে আছেন চঞ্চল। এরপর জেফার ভেতরে আসতেই তিনি অন্যদিকে ফিরে থাকেন। নভোচারীর মতো লিফটে ওপরে উঠছেন তারা। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের লিফটযাত্রা যেন তাদের কাছে মহাকাশযাত্রার মতো দীর্ঘ ও অস্বস্তিকর লাগছে!

টিজার দুটি দেখে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, দর্শকদের জন্য পেট ভরে হাসার রসদ আছে ‘মনোগামী’তে। তবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, এতে একটি আবেগপ্রবণ দিকও আছে! সেই দিকটি তুলে ধরতে রয়েছে একটি গান। এর শিরোনাম ‘মানুষ কেনো এরকম’। এটি লিখেছেন, সুর করেছেন ও গেয়েছেন আহমেদ হাসান সানি। সংগীতায়োজনে পাভেল আরীন।

চাঁদরাতে মুক্তি উপলক্ষে গতকাল ঢাকার গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় সমবেত হন ‘মনোগামী’র পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা।

(বাঁ থেকে) জেফার রহমান, চঞ্চল চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নুসরাত ইমরোজ তিশা ও রেদওয়ান রনি (ছবি: চরকি)

গত ২৩ মার্চ ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র প্রথম পোস্টার প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, চঞ্চল চৌধুরীর ছবি স্বাভাবিক, তবে জেফারের ছবি উল্টো। পোস্টারের নিচের দিকে লেখা– ‘এক সময়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহিত জীবন যাপনের প্রথা; একবিবাহি, একগামিতা।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র পোস্টারে জেফার রহমান ও চঞ্চল চৌধুরী (ছবি: চরকি)

‘মনোগামী’র লামিয়া চরিত্রে জেফারকে নির্বাচন করা প্রসঙ্গে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, নতুন মুখের কাউকে খুঁজছিলেন তিনি। জেফারের ‘ঝুমকা’ গানটি নিয়মিত না শুনলে খাবার খায় না তার মেয়ে ইলহাম! ফারুকী একদিন খেয়াল করে দেখলেন, লামিয়া চরিত্রে জেফার মানিয়ে যায়। ‘মনোগামী’তে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে অবাক হন তিনি।

জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

জেফারের কথায়, ‘ফারুকী ভাইয়ের সিনেমা ও চঞ্চল ভাইয়ের বিপরীতে অভিনয় করতে হবে, সব মিলিয়ে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। ফারুকী ভাই আমাকে চুলের স্টাইল পরিবর্তন করতে বলায় আরও টেনশনে পড়ে যাই। ১৪ বছর ধরে আমার চুলের স্টাইল একই রকম। ফারুকী ভাইয়ের ওপর বিশ্বাস রেখে সব করেছি।’

চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে শুদ্ধ (ছবি: চরকি)

ওয়েব ফিল্মটিতে চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে অভিনয় করেছে তার ছেলে শুদ্ধ। বাবা-ছেলের চরিত্রেই দেখা যাবে তাদের। এটাই শুদ্ধের প্রথম ফিল্ম। সে বলেছে, ‘বাবার শুটিংয়ে অনেকবার গিয়েছি। এবার নিজের শুটিংয়ে গিয়ে খুব নার্ভাস লেগেছিলো। শুটিংয়ের আগের দিন সারারাত ঘুমাতে পারিনি। বাবার সঙ্গে অভিনয় করে খুব আনন্দ লেগেছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর এই ওয়েব ফিল্মে কাজ করা আমার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’তে রাই, চঞ্চল চৌধুরী ও সামিনা হোসেন প্রেমা (ছবি: চরকি)

‘মনোগামী’র আরেকটি মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নৃত্যশিল্পী সামিনা হোসেন প্রেমা। জেফারের মতো তারও অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে। প্রেমার কন্যা রাই পর্দায় তার মেয়ে হিসেবে থাকছে। ওয়েব ফিল্মটির একটি অংশের শুটিং হয়েছে মেট্রোরেলেই। ভিশন ইলেক্ট্রনিকসের নিবেদনে এবারের ঈদুল ফিতরে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’।

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’তে জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র নির্মাণ ভাবনা প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, “আমার প্রিয় একটি কাজ হচ্ছে মানুষের মনের ভেতর ছিপ ফেলে দেখা কী কী ধরা পড়ে সেখানে। ছোট-বড়, তুচ্ছ-গুরুত্বপূর্ণ সবই আমাকে নাড়া দেয়। ‘মনোগামী’তে অনেকদিন পরে নারী-পুরুষ সম্পর্কের কিছু দিক নিয়ে এই রকম ছিপ ফেলার সুযোগ পেয়েছি। গল্পটি আমাদের মনের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ায়। ফলে এটি হাস্যরস, আবেগ আবার কখনো ট্র্যাজেডির রঙ ধারণ করে, অনেকটা আমাদের জীবনের মতোই!”

ফারুকী যোগ করেন, “ব্যাচেলর জীবনের কিছু দিক কোনো রকম রাখঢাক ছাড়াই ‘ব্যাচেলর’ সিনেমায় দেখাতে পেরেছি। এবারের ফিল্মে বিবাহিত ও প্রবাহিত জীবনের কিছু দিক দেখানোর সুযোগ পেয়েছি।”

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’তে চঞ্চল চৌধুরী (ছবি: চরকি)

ফারুকীর প্রতিষ্ঠান ছবিয়ালের নতুন প্রযোজনা ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’ হলো চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় রয়েছে ১২টি ওয়েব ফিল্ম। এরমধ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ ও শিহাব শাহীনের ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ মুক্তি পেয়েছে। ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’তে জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, “দেখতে দেখতে মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের তৃতীয় সিনেমা মুক্তির পথে। প্রথম দুটি সিনেমা দর্শকেরা পছন্দ করেছেন। আশা করছি, দর্শক এবার মনোগামীর মধ্য দিয়ে আগের ফারুকী ভাইয়ের নির্মাণ খুঁজে পাবেন।”

পড়া চালিয়ে যান

ওটিটি

প্রথমবার ওয়েব সিরিজে জয়া আহসান, বানাবেন আশফাক নিপুন

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

জয়া আহসান ও আশফাক নিপুন (ছবি: ফেসবুক)

দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান প্রথমবার ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছেন। এর নাম ‘জিম্মি’। এটি বানাবেন আশফাক নিপুন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে উপভোগ করা যাবে এই কন্টেন্ট।

টাকার গ্রাফিক্স দিয়ে তৈরি হয়েছে ‘জিম্মি’র টাইটেল। জিম্মির সঙ্গে টাকার সম্পর্ক থাকা স্বাভাবিক। গল্পে দেখা যাবে, সরকারি নিম্নপদস্থ কর্মচারী একজন নারী ১০ বছর ধরে কোনো প্রমোশন পায় না। স্বামী-স্ত্রীর টানাটানির সংসার। উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই নারী একদিন অফিসের স্টোররুমে বড় অঙ্কের টাকার বাক্স পায়। হঠাৎ পাওয়া টাকা নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত লোভের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে সে।

জয়া আহসান (ছবি: ফেসবুক)

সোশ্যাল মিডিয়ায় ওয়েব সিরিজ ঘোষণার ভিডিও শেয়ার দিয়ে জয়া আহসান লিখেছেন, ‌‘শুধু এটুকু বলতে পারি, বানাবেন আশফাক নিপুন। আর বাকিটা… ক্রমশ প্রকাশ্য!’

আশফাক নিপুন (ছবি: ফেসবুক)

‘জিম্মি’সহ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই ২০২৪ সালের জন্য নতুন ছয়টি ওয়েব সিরিজের ঘোষণা দিয়েছে। আজ (২৬ মার্চ) ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত ‘হইচই মিট ২০২৪’ (গল্পের নতুন অধ্যায়) শীর্ষক ভিডিওতে এগুলোর নাম, পরিচালক ও প্রধান চরিত্রের অভিনয়শিল্পীদের নাম জানানো হয়েছে।

‘গল্পের নতুন অধ্যায়’ ভিডিওতে ঘোষিত ছয় ওয়েব সিরিজের দুটি পরিচালনা করছেন ভিকি জাহেদ। এরমধ্যে দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো সিআইডি কর্মকর্তার গল্প নিয়ে সাজানো ‘রুমি’তে নাম ভূমিকায় থাকছেন চঞ্চল চৌধুরী। অন্যদিকে ‘মিথ্যাবাদী’তে অভিনয় করছেন মেহজাবীন চৌধুরী। সিরিজটির গল্পে দেখা যাবে, স্বামীর প্রতি শতভাগ বিশ্বস্ত স্ত্রী। কিন্তু মা হওয়ার চার বছর পর সে জানতে পারে তার স্বামী সন্তান জন্মদানে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম। স্ত্রীর মনে প্রশ্ন, তাহলে তার সন্তান কার! সন্দেহের বশীভূত হয়ে শ্বশুর ও ভাসুরের বিরুদ্ধে মামলা করে সে।

অনম বিশ্বাসের ‘রঙিলা কিতাব’-এ থাকছেন পরীমণি। বরিশালের একটি ছোট শহরের গ্যাংস্টার প্রদীপ প্রথমবারের মতো বাবা হতে যাচ্ছে জানার পরে তার অপরাধ জীবনকে বিদায় বলার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পরের দিনই স্থানীয় এমপিকে হত্যার ঘটনায় অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত হয় প্রদীপ। তারপর থেকে পালিয়ে বেড়ায় প্রদীপ। এখন তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব নিজেকে এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পুলিশ ও অজানা বিপদ থেকে রক্ষা করা।

অমিতাভ রেজা চৌধুরীর পরিচালনায় ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া (আট মানে Not)’ সিরিজে প্রধান চরিত্রে থাকছেন মোশাররফ করিম। এতে ট্রাক ড্রাইভার আব্বাস চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। সে দুর্দান্ত প্রেমিক মানুষ। সাত জেলায় থাকা সাত বউকে একে অপরের কাছ থেকে গোপন রেখে সে সুনিপুণভাবে সাত সংসার সামলায়। এদিকে একজন বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়ে হওয়া থেকে সদ্য যুবতী সুন্দরীকে বাঁচানোর পর সুন্দরী আব্বাসের প্রেমে পড়ে ও তাকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু আব্বাস জানে আট মানে সর্বনাশ তাই সুন্দরীকে বিয়ে করতে না চাইলেও একপ্রকার বাধ্য হয়ে বিয়ে করতে হয় তাকে। এরপর শুরু হয় গণ্ডগোল। আব্বাসের সাত সংসারে শুরু হয় বিভিন্ন রকম ঝামেলা।

হইচইয়ের ‘বুকের মধ্যে আগুন’ সিরিজের জনপ্রিয় চরিত্র গোলাম মামুন হয়ে ফিরছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। ‘গোলাম মামুন’ নামের সিরিজটির গল্পে দেখা যাবে, নিজের আততায়ীকে খুনের দায়ে আটক হয় মামুন, সেই সঙ্গে বন্ধু দম্পতির খুনেও জড়িয়ে যায় তার নাম। আইনরক্ষক মামুনকে আইন ভেঙে পুলিশের হাত থেকে পালাতে হয় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে। কিন্তু বাইরে অপেক্ষা করছে আরো বড় বিপদ। ‘বুকের মধ্যে আগুন’ তানিম রহমান অংশু পরিচালনা করলেও ‘গোলাম মামুন’ বানাচ্ছেন শিহাব শাহীন।

প্রতিবছর বাংলাদেশি কন্টেন্টের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা উদযাপনের জন্য আয়োজন করা হয় ‘হইচই মিট’। এর মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের কনটেন্ট এবং প্রতিভাবান শিল্পীদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে হইচই।

এ প্রসঙ্গে হইচই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাকিব আর খান বলেন, “হইচই বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ‘ঢাকা মেট্রো’ সিরিজ দিয়ে যাত্রা শুরু করে। এরপর আরো ১৮টি সিরিজ মুক্তি পেয়েছে এতে, যেগুলো বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে হইচইয়ের লক্ষ্য সারা পৃথিবীতে বাংলা ভাষায় কথা বলা মানুষের কাছে নিজেদের ভাষায় মানসম্মত বিনোদন পৌঁছে দেওয়া। দর্শকদের জন্য হইচই সহজলভ্য করতে আমরা ইতোমধ্যে গ্রামীণফোন, রবি এবং বাংলালিংকের সঙ্গে একাত্ম হয়েছি। পাশাপাশি আমরা দর্শকদের জন্য পছন্দসই কনটেন্ট নির্মাণের উদ্দেশে বাংলাদেশের খ্যাতিমান নির্মাতা এবং অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছি। আমরা এ বছর ছয়টি কন্টেন্টের ঘোষণা দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরো বাড়বে।”

পড়া চালিয়ে যান

ওটিটি

ওলট-পালট চঞ্চল-জেফার, ঈদে ফারুকীর ‘মনোগামী’

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী ও জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

ঈদে ‘ইদানীং’-এর সম্পর্ক নিয়ে আসছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’। ওয়েব ফিল্মটিতে মধ্যবয়সী একজনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। তার সঙ্গে থাকছেন সংগীতশিল্পী জেফার রহমান। এবারই প্রথম অভিনয়ে নাম লিখিয়েছেন এই গায়িকা।

গতকাল (২৩ মার্চ) ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র প্রথম পোস্টার প্রকাশিত হয়েছে। এতে চঞ্চল চৌধুরীর ছবি স্বাভাবিক, তবে জেফারের ছবি উল্টো। পোস্টারের নিচের দিকে লেখা– ‘এক সময়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহিত জীবন যাপনের প্রথা; একবিবাহি, একগামিতা।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র পোস্টারে জেফার রহমান ও চঞ্চল চৌধুরী (ছবি: চরকি)

অভিনয় প্রসঙ্গে জেফার বলেন, ‘একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছি। তবে এবার অভিনেত্রী হিসেবে দেখা যাবে আমাকে। আমার জন্য ঘটনাটি নিঃসন্দেহে আনন্দের, তবে চ্যালেঞ্জিংও বটে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় অভিনয় করা এবং সহশিল্পী হিসেবে চঞ্চল চৌধুরীকে পাওয়া বলা যায় কিছুটা চাপের এবং একইসঙ্গে রোমাঞ্চকর।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র দৃশ্যে জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

জেফারকে দিয়ে অভিনয় করানো প্রসঙ্গে ফারুকীর মন্তব্য, ‘জেফার গানের লোক। এটাই তার প্রথম অভিনয়। তাকে পাওয়ার ফলে ফিল্মের গল্প প্রাণবন্ত হয়েছে।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী (ছবি: চরকি)

চঞ্চলের ব্যাপারে ফারুকীর মন্তব্য, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা বহু পুরনো। এখনো একই রকম অপ্রতিরোধ্য তিনি। চঞ্চল ভাই তার দুর্দান্ত কারিশমা দিয়ে বিচিত্র মুহূর্তগুলোকে জলবৎ তরলং করে দিয়েছেন।’

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী ও জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

চঞ্চলের কথায়, ‘২০০৫ সালে ফারুকী ভাইয়ের নির্দেশনায় একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করার মাধ্যমে আমার ক্যারিয়ার ঘুরে যায়। তার সঙ্গে প্রায় ২০ বছরের কাজের সম্পর্ক। ফারুকী ভাইয়ের সব গল্পে আলাদা মাত্রা থাকে। এবারের ফিল্মে দর্শকদের ভাবানোর মতো কিছু মনস্তাত্ত্বিক দিক আছে। নতুন নতুন চরিত্র খুঁজে বেড়ানো আমার নেশা। তাই এতে আমার চরিত্রের লুক, গেট-আপ যথারীতি ভিন্ন।’

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (ছবি: চরকি)

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র নির্মাণ ভাবনা প্রসঙ্গে ফারুকী বলেন, “আমার প্রিয় একটি কাজ হচ্ছে মানুষের মনের ভেতর ছিপ ফেলে দেখা কী কী ধরা পড়ে সেখানে। ছোট-বড়, তুচ্ছ-গুরুত্বপূর্ণ সবই আমাকে নাড়া দেয়। ‘মনোগামী’তে অনেকদিন পরে নারী-পুরুষ সম্পর্কের কিছু দিক নিয়ে এই রকম ছিপ ফেলার সুযোগ পেয়েছি। গল্পটি আমাদের মনের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ায়। ফলে এটি হাস্যরস, আবেগ আবার কখনো ট্র্যাজেডির রঙ ধারণ করে, অনেকটা আমাদের জীবনের মতোই!”

ফারুকী যোগ করেন, “ব্যাচেলর জীবনের কিছু দিক কোনো রকম রাখঢাক ছাড়াই ‘ব্যাচেলর’ সিনেমায় দেখাতে পেরেছি। এবারের ফিল্মে বিবাহিত ও প্রবাহিত জীবনের কিছু দিক দেখানোর সুযোগ পেয়েছি।”

‘লাস্ট ডিফেন্ডার অব মনোগামী’র দৃশ্যে জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

ভিশন ইলেক্ট্রনিকসের নিবেদনে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’। এতে আরো অভিনয় করেছেন নৃত্যশিল্পী সামিনা হোসেন প্রেমা। তারও অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে।

‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’র দৃশ্যে জেফার রহমান (ছবি: চরকি)

ফারুকীর প্রতিষ্ঠান ছবিয়ালের নতুন প্রযোজনা ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’ হলো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় রয়েছে ১২টি ওয়েব ফিল্ম। এরমধ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ ও শিহাব শাহীনের ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ মুক্তি পেয়েছে। ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ’ প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

পড়া চালিয়ে যান

সিনেমাওয়ালা প্রচ্ছদ