Connect with us

গান বাজনা

একজীবনে রুনা লায়লা: বলিউডে গান, গিনেস রেকর্ড, আটবার জাতীয় পুরস্কার, সিনেমায় অভিনয়

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

রুনা লায়লা (ছবি: ফেসবুক)

দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লাকে বলা হয় তারকাদের তারকা। সবশ্রেণির জনপ্রিয়তা, সাফল্য আর প্রাপ্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গানের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন তিনিই। অনন্য কণ্ঠ, অধ্যবসায়, একাগ্রতা, চর্চা, সময়জ্ঞানে তার তুলনা শুধু তিনিই। আজ (১৭ নভেম্বর) তার জন্মদিন। পরিবার, স্বজন, শিল্পী ও ভক্তদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন গুণী এই শিল্পী।

১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন রুনা লায়লা। বাবা এমদাদ আলী ছিলেন পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। সেজন্য মা আমিনা লায়লা, বড় বোন দিনা লায়লা ও ভাই সৈয়দ আলী মুরাদসহ তাকে পাকিস্তানেই শৈশব কাটাতে হয়েছে। ১৯৬৫ সালের জুনে মনজুর হোসেনের সংগীত পরিচালনায় উর্দু সিনেমা ‘জুগনু’র দুটি গানে কণ্ঠ দেন তিনি। এগুলো হলো ‘গুড়িয়া সি মুন্নি মেরি ভাইয়া কি পেয়ারি’ এবং ‘মারনা ভি নাহি আসান’। এর পরের বছর পাকিস্তানি সিনেমা ‘হাম দোনো’তে তার গাওয়া ‘উনকি নজরো সে মোহাব্বত কা জো পয়গাম মিলা’ ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পায়।

রুনা লায়লা (ছবি: ফেসবুক)

১৯৬৫ সাল থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশকে শ্রোতাদের অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন রুনা লায়লা। যুগের পর যুগ সংগীতপিপাসুদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন তিনি। তার গানের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটি, পশতু, বেলুচি, আরবি, পারসি, মালয়, নেপালি, জাপানি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, ফরাসি ও ইংরেজিসহ ১৭টি ভাষায় গান করেছেন তিনি।

পাকিস্তান রেডিওর ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসে প্রথম বাংলা গানে কণ্ঠ দেন রুনা লায়লা। দেবু ভট্টাচার্যের সুর করা গান দুটি ছিলো ‘নোটন নোটন পায়রাগুলো’ ও ‘আমি নদীর মতো পথ ঘুরে’।

১৯৭০ সালে বাংলা সিনেমার জন্য রুনা লায়লা প্রথম গেয়েছেন ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথা ও সুবল দাসের সুরে এটি তৈরি হয় ‘স্বরলিপি’ সিনেমার জন্য। একই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন মাহমুদুন্নবী। লাহোরের বারী স্টুডিওতে এর রেকর্ডিং হয়।

রুনা লায়লা (ছবি: ফেসবুক)

১৯৭৪ সালে পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলেন আসেন রুনা লায়লা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি প্রথম গেয়েছেন সত্য সাহার সুরে ‘জীবন সাথী’ সিনেমায়। তার সহশিল্পী ছিলেন খন্দকার ফারুক আহমেদ। একই বছর কলকাতায় ‘সাধের লাউ’ গানটি নতুন সংগীতায়োজনে রেকর্ড করেন তিনি। এটি এবং ‘দমা দম মাস্ত কালান্দার’ গান দুটি দিয়ে ভারত জুড়ে জনপ্রিয়তা পান তিনি। ১৯৭৪ সালে মুম্বাইয়ে প্রথমবার কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেন।

১৯৭৬ সালে কল্যাণজি-আনন্দজির সুরে ‘এক সে বাড়কার এক’ সিনেমার টাইটেল গান গেয়ে বলিউডে পা রাখেন রুনা লায়লা। হিন্দি সিনেমায় তার গাওয়া গানের তালিকায় রয়েছে– জয়দেবের সুরে ‘তুমহে হো না হো’, ‘মুঝে পেয়ার তুমসে নেহি হ্যায়’ ও ‘দো দিওয়ানে শেহার মে’ (সহশিল্পী: ভূপিন্দর সিং; ঘারোন্দা, ১৯৭৭), বাপ্পি লাহিড়ীর সুরে ‘মার গ্যায়ো রে’ (সহশিল্পী: মোহাম্মদ রফি; জান-এ-বাহার, ১৯৭৯), ‘কাহো সখি কাহো’ (সহশিল্পী: বাপ্পি লাহিড়ী; এক দিন বহু কা, ১৯৮৩), ‘অ্যায় দিলওয়ালে আও’ (ইয়াদগার, ১৯৮৪) ও ‘জান মেরি জান’ (সাজান কে লিয়ে, ১৯৯৫), এম. আশরাফের সুরে ‘ও মেরা বাবু ছেইল ছেবিলা’ (ঘর দুয়ার, ১৯৮৫), লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলালের সুরে ‘আলি বাবা মিল গ্যায়া চালিস চোরো সে’ (অগ্নিপথ, ১৯৯০) ও ‘ম্যায় কালি আনার কি’ (সহশিল্পী: আদেশ শ্রীবাস্তব; স্বপনো কা মন্দির, ১৯৯১)।

‘ও মেরা বাবু ছেইল ছেবিলা’ ছিলো পাকিস্তানের ‘মান কি জিত’ (১৯৭২) সিনেমার গান। পরে এটি ব্যবহার হয় বলিউডের ‘ঘর দুয়ার’ (১৯৮৫) সিনেমায়।

১৯৮২ সালের ১ ডিসেম্বর বাপ্পি লাহিড়ীর সুরে রুনা লায়লার ‘সুপারুনা’ অ্যালবামটি ইএমআই মিউজিক কোম্পানি প্রকাশের প্রথম দিনেই ১ লাখ কপি বিক্রি হয়। এজন্য উপহার হিসেবে গোল্ডেন ডিস্ক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। অ্যালবামটির কাজ হয়েছিলো লন্ডনে, যেখানে বিটলস গান রেকর্ডিং করতো।

রুনা লায়লা (ছবি: ফেসবুক)

নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ে পাকিস্তানি সংগীত পরিচালক নিসার বাজমির সুরে একেক দিনে ১০টি করে তিন দিনে ৩০টি গানে কণ্ঠ দেন রুনা লায়লা। এটি ছিলো বিশ্বরেকর্ড। ফলে তার নাম লেখা হয় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। এর আগেও নিসার বাজমির সুর করা ক্লাব সং, স্যাড সং, ক্লাসিক্যাল, গজল, গীতসহ বিভিন্ন ধরনের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

রুনা লায়লা মোট আটবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। তার কালজয়ী গানের তালিকায় রয়েছে ‘যখন আমি থাকবো নাকো’, ‘বুকে আমার আগুন জ্বলে’, ‘যখন থামবে কোলাহল’, ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’, ‘আয়রে মেঘ আয়রে’, ‘এই বৃষ্টিভেজা রাতে’, ‘আমার মন বলে তুমি আসবে’, ‘পাখি খাঁচা ভেঙে উড়ে গেলে’, ‘বন্ধু তিন দিন তোর বাড়িত’, ‘সুখ তুমি কী বড় জানতে ইচ্ছে করে’, ‘পান খাইয়া ঠোঁট লাল’ প্রভৃতি। দেশের গানের তালিকায় উল্লেখযোগ্য– ‘প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্যরাগে’, ‘হায়রে আমার মন মাতানো দেশ’, ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো’।

বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত বেশ কিছু ভেন্যুতে সংগীত পরিবেশন করেছেন রুনা লায়লা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য– রয়্যাল অ্যালবার্ট হল, ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম, ওয়েম্বলি কনফারেন্স সেন্টার, মেডিসন স্কয়ার গার্ডেন, লিংকন সেন্টার নিউইয়র্ক, সিডনি অপেরা হাউস।

১৯৯৯ সালে জিটিভির ‘সারেগামাপা’ (হিন্দি) প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারক ছিলেন রুনা লায়লা। তার সঙ্গে আরো ছিলেন মেহেদি হাসান, গুলাম আলী, ফরিদা খানম ও জগজিৎ সিং। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সনু নিগাম। জি বাংলার ‘সারেগামাপা বিশ্বসেরা’ প্রতিযোগিতায় রুনার সঙ্গে বিচারক ছিলেন কুমার শানু ও শান্তনু মৈত্র। বাংলাদেশ, ভারত আর পাকিস্তানের প্রতিযোগীদের নিয়ে ২০১২ সালে দুবাইয়ে আয়োজন করা হয় ‘সুরক্ষেত্র’। রুনা লায়লা ছাড়াও এতে বিচারক ছিলেন আশা ভোঁসলে ও আবিদা পারভীন। বাংলাদেশে চ্যানেল আইয়ের ‘সেরাকণ্ঠ’ এবং চ্যানেল নাইনের ‘পাওয়ার ভয়েস’ প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন তিনি।

শুধু গান নয়, বড় পর্দায় অভিনয় করেছেন রুনা লায়লা। ১৯৯১ সালে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘শিল্পী’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। তার জীবনের কিছু গল্প বলা হয়েছে এতে। সিনেমাটির নায়ক ছিলেন আলমগীর। এরপর তারা বাস্তবে বিয়ের বন্ধনে জড়ান।

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় কাজ করেছেন রুনা লায়লা। সার্ক এবং ইউএনএইডসের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছেন। বড় বোন দিনার মৃত্যুর পর ঢাকায় শিশু হাসপাতালে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি ওয়ার্ড গড়েছেন।

গান বাজনা

ইউটিউবের গ্লোবাল টপ হান্ড্রেড সংস চার্টের চার নম্বরে ‘লাগে উরাধুরা’

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

‘লাগে উরাধুরা’ গানে শাকিব খান ও মিমি চক্রবর্তী (ছবি: এসভিএফ)

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের ‘তুফান’ সিনেমার গান ‘লাগে উরাধুরা’ জায়গা করে নিয়েছে ইউটিউবের গ্লোবাল টপ হান্ড্রেড সংস চার্টের চার নম্বরে। এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো গান এই তালিকার শীর্ষ পাঁচের মধ্যে ঢুকলো। এছাড়া গ্লোবাল টপ মিউজিক ভিডিও চার্টের ৬২ নম্বরে রয়েছে এটি।

‘তুফান’ সিনেমার পরিচালক রায়হান রাফী গতকাল (১২ জুলাই) সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, ‘লাগে উরাধুরা’ গানটি গ্লোবাল টপ হান্ড্রেড সংস চার্টের চার নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে। ইউটিউব গ্লোবাল উইকলি (২৮ জুন থেকে ৪ জুলাই) টপ সংস চার্ট প্রকাশ করলে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

ইউটিউবের গ্লোবাল উইকলি টপ সংস চার্ট

গত ২৭ মে ইউটিউবে চরকির চ্যানেলে অবমুক্ত করা হয় ‘লাগে উরাধুরা’। এখন পর্যন্ত এর ভিউ ৩ কোটি ৯০ লাখের বেশি। গানটি গেয়েছেন প্রীতম হাসান ও দেবশ্রী অন্তরা। এটি লিখেছেন শরিফ উদ্দিন ও রাসেল মাহমুদ। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রীতম হাসান ও প্রয়াত মাতাল রাজ্জাক দেওয়ান।

‘লাগে উরাধুরা’ গানে প্রীতম হাসান, মিমি চক্রবর্তী ও শাকিব খান (ছবি: এসভিএফ)

‘লাগে উরাধুরা’ গানে শাকিব খানের সঙ্গে কলকাতার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর রসায়ন দেখা গেছে। এছাড়া সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান হাজির হয়েছেন শেষাংশে। নৃত্য পরিচালনা করেছেন ভারতের আদিল শেখ। পোশাক পরিকল্পনায় ফারজানা সান, শিল্প নির্দেশনায় শিহাব নুরুন নবী, চিত্রগ্রহণে তাহসিন রহমান।

‘লাগে উরাধুরা’ গানে মিমি চক্রবর্তী ও শাকিব খান (ছবি: এসভিএফ)

সিনেমাটির সব গানই সাড়া ফেলেছে। আকাশ সেনের কথা, সুর ও সংগীতে ‘দুষ্টু কোকিল’ গেয়েছেন দিলশাদ নাহার কনা। টাইটেল গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আরিফ রহমান জয়। এতে র‍্যাপ করেছেন রাপাস্তা দাদু। এর কথা লিখেছেন তাহসান শুভ, সুর ও সংগীত পরিচালনায় নাভেদ পারভেজ।

‘লাগে উরাধুরা’ গানে শাকিব খান ও মিমি চক্রবর্তী (ছবি: এসভিএফ)

‘তুফান’ প্রযোজনা করেছেন প্রযোজক আলফা-আই স্টুডিওজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল। এর আন্তর্জাতিক পরিবেশক এসভিএফ, ডিজিটাল পার্টনার চরকি।

পড়া চালিয়ে যান

গান বাজনা

রুনা লায়লা ৬০ নটআউট!

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

সংগীত জীবনের ৬০ বছর পূর্তির আয়োজনে রুনা লায়লা (ছবি: চ্যানেল আই)

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার সংগীত জীবনের ৬০ বছর পূর্ণ হলো। গান রেকর্ডিংয়ের হিসাবে আজ (২৪ জুন) এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারে মোট ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন এই মহাতারকা।

রুনা লায়লার সংগীতজীবনের ছয় দশক পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে ঢাকার তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আইয়ের ছাদবারান্দায়। এখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘রুনা লায়লা: সংগীত জীবনের ৬০ বছর।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের দোয়া, আশীর্বাদ ও ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা আমাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। এই ভালোবাসা, আশীর্বাদ শ্রদ্ধা যেন চিরকাল আমার সঙ্গে থাকে।’

নিজের সংগীত জীবনের ৬০ বছর পূর্তির আয়োজনে শাইখ সিরাজের সঙ্গে রুনা লায়লা (ছবি: চ্যানেল আই)

অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য তো বটেই, গোটা উপমহাদেশের সংগীতপিপাসু সকলের জন্যই আনন্দের একটি দিন। রুনা লায়লা উপমহাদেশের সংগীতকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছেন, বাঙালি হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি।’

বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান অভিনেতা আলমগীরের আজ একটি বিশেষ দিন। ১৯৭২ সালের ২৪ জুন সর্বপ্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি।

নিজের সংগীত জীবনের ৬০ বছর পূর্তির আয়োজনে আলমগীরের সঙ্গে রুনা লায়লা (ছবি: চ্যানেল আই)

ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশ-বিদেশের তারকারা। সনু নিগাম বলেন, ‘আপনি দারুণ গুণী শিল্পী ও সুন্দর। আপনার ব্যবহার ভালো। আপনার সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার। যখন থেকে আমার চোখ খুলেছে, তখন থেকে আপনাকে শুনছি। আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা। পৃথিবী আপনাকে ভালোবাসে, আমি আপনাকে ভালোবাসি।’

পাকিস্তানের অভিনেতা ইমরান আব্বাস শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আপনি বাকি জীবন গাইতে থাকুন, পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করুন। পাকিস্তান থেকে ভালোবাসা জানাই।’

অনুষ্ঠানের শেষে রুনা লায়লার কালজয়ী গান ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’ গেয়ে শোনান গায়িকা সোমনূর মনির কোনাল। এছাড়া গান গেয়েছেন ইমরান মাহমুদুল, ঝিলিক, লুইপা, অনিমা মুক্তি, অনন্যা।

রুনা লায়লা (ছবি: ফেসবুক)

১৯৬৪ সালের ২৪ জুন মাত্র ১২ বছর বয়সে পাকিস্তানের ‘জুগনু’ সিনেমার ‘গুড়িয়া সি মুন্নি মেরি ভাইয়া’ গানটি গাওয়ার মধ্য দিয়ে পেশাগতভাবে প্লেব্যাকে মনোনিবেশ করেন রুনা লায়লা। গানটি লিখেছেন তিসনা মেরুতি, সুর করেন মানজুর। এরপর পাকিস্তানের বহু সিনেমার জন্য গেয়েছেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের আগেই ১৯৭০ সালের ২৯ মে মুক্তিপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘স্বরলিপি’র মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশের সিনেমায় প্লেব্যাক করেন রুনা লায়লা। এতে তার গাওয়া ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’ গানটি তুমুল শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। এটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুর করেন সুবল দাস। গানটির সঙ্গে পর্দায় ঠোঁট মিলিয়েছেন চিত্রনায়িকা ববিতা। প্রথম প্লেব্যাকেই ব্যাপক সাড়া ফেলে দেওয়ায় বাংলাদেশের সিনেমার গানে তার কণ্ঠের কদর বেড়ে যায়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে এসে তিনি একে একে বহু সিনেমায় প্লেব্যাক করে শ্রোতা-দর্শককে মুগ্ধ করেছেন।

রুনা লায়লা

রুনা লায়লা (ছবি: ফেসবুক)

বাংলা ভাষায় রুনা লায়লার বহু আধুনিক জনপ্রিয় গান রয়েছে। তিনি ‘দি রেইন’, ‘জাদুর বাঁশি’, ‘অ্যাক্সিডেন্ট’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেবদাস’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ ও ‘তুমি আসবে বলে’ সিনেমায় প্লেব্যাকের জন্য সেরা গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

পড়া চালিয়ে যান

গান বাজনা

‘রূপবান’ মিলার নতুন আইটেম গান ‘টোনা টুনি’

সিনেমাওয়ালা রিপোর্টার

Published

on

মিলা ইসলাম (ছবি: জি-সিরিজ)

পপ গায়িকা মিলা ইসলাম চমক নিয়ে ফিরছেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে নতুন একটি গান আনছেন তিনি। এর শিরোনাম ‘টোনা টুনি’। গায়িকা নিজেই এই গান লিখেছেন এবং সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন। আইটেম গানের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে এটি।

‘টোনা টুনি’র ভিডিওতে নেচেছেন মিলা। তার সঙ্গে মডেল হয়েছেন মারুফ চৌধুরী অমি। এটি নির্মাণ করেছেন ইলজার ইসলাম। ইউটিউবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি-সিরিজের চ্যানেলে আগামীকাল (১৫ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় মিউজিক ভিডিওটি মুক্তি পাচ্ছে।

নতুন গান নিয়ে আশাবাদী মিলা। এতে তার জনপ্রিয় গান ‘রূপবান’-এর আবহ পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, “শ্রোতাদের প্রিয় ‘রূপবান’ গানের পর আর কখনো আমাকে আইটেম গানে দেখা যায়নি। তবে ভক্তদের চাওয়া ছিলো এমন কাজ যেন আবার করি। কিন্তু মনের মতো গান পাচ্ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত নিজেই গানের কথা লিখে সুর ও সংগীতায়োজন করেছি।”

মিলা যোগ করেন, “ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ‘টোনা টুনি’ গানে হাজির হচ্ছি। তবে এমন আইটেম গান আর কখনো করবো না। এটাই আমার দ্বিতীয় ও শেষ আইটেম গান। দুই বছর ধরে এটি তৈরি করেছি। শ্রোতা-দর্শকদের কাছে একটি চমক নিয়ে ফিরতে চেয়েছি। ‘টোনা টুনি’ গানের কথাগুলো একেবারে আলাদা। আমি ড্যান্সার না তারপরও এই গানের জন্য নাচ করতে হয়েছে। নিজের সেরাটা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। এতটুকু বলতে পারি বিভিন্ন উৎসব মাতানোর মতো একটি গান হয়েছে। গানটি দিয়ে মঞ্চ মাতানোর অপেক্ষায় আছি। এখন দর্শক-শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় আছি।’

‘টোনা টুনি’র পোস্টারে মিলা ইসলাম (ছবি: জি-সিরিজ)

মাঝে নতুন গানের অনেক প্রস্তাব পেলেও ‘টোনা টুনি’র কথা ভেবে অপেক্ষায় ছিলেন মিলা। গানের টিজার প্রকাশের পর ভক্তদের আগ্রহ দেখে তার প্রত্যাশা বেড়েছে।

মিলা জানিয়েছেন, টিকটকে ‘টোনা টুনি’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভিউ হবে যাদের এবং যারা ভালো নাচবেন, এমন ১০ জনের সঙ্গে তিনি গানটির তালে পারফর্ম করবেন।

জি-সিরিজ থেকে নতুন গান আনা প্রসঙ্গে মিলা বলেন, ‘অডিও-ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নাজমুল হক ভূঁইয়া খালেদ আমাকে মেয়ের মতো স্নেহ করেন। তিনি আমার সুখে-দুখে সবসময় পাশে ছিলেন। আমিও ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গানের কথা ভাবলে জি-সিরিজের নাম আগে মাথায় আসে। তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ। বলা যায় জি-সিরিজ আমার নিজের ঘর। সেজন্য তাদের মাধ্যমেই নতুন গান প্রকাশ করছি।’

‘টোনা টুনি’র পোস্টারে মিলা ইসলাম (ছবি: জি-সিরিজ)

সর্বশেষ তিন বছর আগে জি-সিরিজের ‘আইসালা’ শিরোনামের একটি মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে মিলাকে। এরপর কাজ কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে মঞ্চে সংগীত পরিবেশন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তার।

আর বিরতি নয়, মিলা এখন থেকে গানে নিয়মিত হবেন। পাশাপাশি আরো বেশি সরব থাকবেন মঞ্চে। তার কথায়, ‘বিভিন্ন কারণে মাঝে কিছু সময় নষ্ট হয়েছে। আর যেন এমন না হয় সেদিকে সজাগ থাকবো। মঞ্চে সংগীত পরিবেশনার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া নতুন গানের কাজ করছি। চলতি বছর শ্রোতাদের আরো কয়েকটি গান উপহার দিতে চাই।’

পড়া চালিয়ে যান
Advertisement

সিনেমাওয়ালা প্রচ্ছদ